মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে আগামী সেপ্টেম্বরেই সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়ায় বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
একই সময়ে ডিসেম্বরে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৭৯ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
স্টোন এক্স-এর সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল প্যাভিলেনিস বলেন, ‘স্বর্ণের দরপতনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো সুদের হার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ও ডলারের মান ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো স্বর্ণকে এক নাজুক অবস্থানে ফেলে দিয়েছে।’
এরআগে ফেড চেয়ারম্যানের ‘হকিশ’ বা কঠোর নীতির ইঙ্গিতের পর আগামী সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এক লাফে ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৬০-৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এদিকে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় মার্কিন ডলারের সূচক শক্তিশালী হয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলারের মান বাড়লে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়।
অন্যদিকে স্বর্ণের সঙ্গে অনান্য ধাতুর দামও কমেছে। সোমবার স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়াও স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৭৮৮ দশমিক ০৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দামও ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬২ দশমিক ৭৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর





