সরকারি তহবিল অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক অর্থমন্ত্রী রবি করুণানায়েকেকে গ্রেফতার করেছিল দেশটির প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা-‘ঘুষ বা দুর্নীতি তদন্ত কমিশন’ (সিআইএবিওসি)। তবে কয়েকঘণ্টার পরই শর্ত সাপেক্ষে তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন কলম্বোর একটি আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইএবিওসি।
সিআইএবিওসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ২২ মে পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন রবি করুণানায়েকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘জাতীয় লটারি বোর্ড’ (এনএলবি) থেকে চুক্তির ভিত্তিতে ৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে সরকারি তহবিল থেকে বেতন দেওয়া হলেও তারা মূলত ওই সাবেক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে চারবার তাকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। এমনকি তার বাসভবনে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে সোমবার সকালে তিনি নিজেই কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হলে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে গ্রেফতারের পর রবি করুণানায়েকেকে আদালতে পেশ করা হলে তার আইনজীবীরা জানান যে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্লিপ অ্যাপনিয়াসহ বেশ কিছু জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি।
পরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার শর্ত বিবেচনা করে ১০ লাখ রুপি করে দুটি জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন কলম্বোর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট। তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, রবি করুণানায়েকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের প্রশাসনের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারে ঘটনাটি ঘটেছে।
শ্রীলঙ্কার এই চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন এবং কারো কারো দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডও হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মিরর
এমএইচআর





