যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা ৩ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৩৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
প্রায় এক মাস বিরতির পর গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি মাইন স্থাপনকারী লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, ‘এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ থমকে যাওয়ার আশঙ্কার প্রতিফলন’।
অনান্য বাজার বিশ্লেষকদের মতে, , যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের বাজার রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে অস্থিরই থাকবে।
এছাড়াও নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
এরআগে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পর্যায়ে (২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন) নেমে আসে এবং দাম আরও কমার প্রত্যাশায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়া ফের বাড়ছে তেলের দাম।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




