সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

উগ্র হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

শেয়ার করুন:

উগ্র হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিক্ষোভ

‘বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যাসিবাদী সংগঠন' হিসেবে চিহ্নিত ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে রোববার (৩০ আগস্ট) মানবাধিকার কর্মীরা নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

মোহন ভাগবতকে সম্মান জানাতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার হিন্দু উপস্থিত ছিলেন। খবর মিডলইস্ট আইয়ের।

আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান চলাকালে এর প্রতিবাদে মানবাধিকার কর্মীরা নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ-এর আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে আরএসএস নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে ২০০টিরও বেশি হিন্দু ও ভারতীয় সহযোগী সংগঠন থেকে প্রায় ৫ হাজার অংশগ্রহণকারী সমবেত হয়েছিলেন।

আরএসএসের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল সাউথ এশিয়ান লেফট (সালাম), ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল (আইএএমসি), হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস (এইচএফএইচআর) এবং অ্যান্টি ইম্পেরিয়ালিস্ট সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফিলাডেলফিয়া (এআইএসএ ফিলি)-সহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠন।

ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিলের বোর্ড সদস্য সাফা আহমেদ গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বলেন, আমি প্রতিবাদ করছি কারণ আরএসএস গত ১০০ বছর ধরে হিন্দুত্ব বা হিন্দু আধিপত্যের ফ্যাসিবাদী মতাদর্শকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। তারা বলছে ২০ কোটি ভারতীয় মুসলমান, ভারতীয় বলে অভিহিত হওয়ার যোগ্য নয় এবং ভারত থেকে মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া উচিত।

১৯২৫ সালে গঠিত আরএসএস-এর বিশ্বজুড়ে পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০টিরও বেশি অনুমোদিত শাখা রয়েছে। এটি ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র, অর্থাৎ একটি হিন্দু জাতিরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নকে প্রচার করে এবং এটি ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শগত জনক।

আরএসএস-এর প্রথম দিকের চিন্তাবিদরা সুস্পষ্টভাবে নাৎসিবাদ এবং ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনে জায়নবাদের বাস্তবায়নের অনুরূপ একটি সমজাতীয় হিন্দু জাতিরাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

আরএসএস-এর তাত্ত্বিক এম এস গোলওয়ালকর তার ‘উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইনড’ বইয়ে সংখ্যালঘুদের জন্য সম্পূর্ণ আত্মীকরণ বা জাতিগত পরাধীনতা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দলটির হিন্দু রাষ্ট্র প্রকল্পকে অ্যাডলফ হিটলারের ইহুদি-বিদ্বেষের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

‘জাতি ও সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে জার্মানি সেমিটিক জাতি-অর্থাৎ ইহুদিদের-দেশ থেকে নির্মূল করে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল, সাবেক আরএসএস নেতা তার বইতে লিখেছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, জার্মানি এটাও দেখিয়েছে যে, যেসব জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে গোড়া থেকে পার্থক্য রয়েছে, তাদের একীভূত করে একটি একক সত্তায় পরিণত করা প্রায় অসম্ভব। এটি আমাদের অর্থাৎ হিন্দুস্তানের জন্য শেখার এবং লাভবান হওয়ার একটি ভালো শিক্ষা।

ভারতের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের জন্য আরএসএসকে দায়ী করা হয় এবং তাদের ওয়েবসাইটে কাশ্মীরের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর দমননীতর বিরোধিতা করেন।

আইএএমসি-র সাফা বলেছেন, আরএসএস এবং তার সমর্থক গোষ্ঠী শুধু যে ভারতের সংখ্যালঘুদের নিয়ে ভাবে না তাই নয়, বরং তারা ভারতীয় সংখ্যালঘু এবং কাশ্মীরিদের রক্তপাত ঘটাতেও রাজি।

নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-আমেরিকান। তিনিও আরএসএসের দৃষ্টিভঙ্গির নিন্দা জানিয়ে এ সংগঠনকে ফ্যাসিবাদী বলে বর্ণনা করেছেন।

মামদানি বলেছেন, আরএসএসের সমাবেশটিকে আমি সমর্থন করি না, কিন্তু একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহরের কোনো এখতিয়ার আছে কিনা, তা আমি জানি না।

নিউইয়র্ক-ভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক সংগঠন ‘সালাম’-এর সদস্য শ্রী বাফনা অনুষ্ঠানটির স্থানের তাৎপর্য তুলে ধরেন বলেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন একটি বিশ্বমঞ্চের প্রতিনিধিত্ব করে, এই ধরনের বিশ্বমঞ্চে ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই।

এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়ম এটি আমাদের এই প্রবাসে বিদ্যমান এক বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক মতাদর্শ এবং ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার একটি লক্ষণ।

মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে জোটের বিক্ষোভের পাশে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী একদল বিক্ষোভকারীও উপস্থিত ছিলেন।

শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে) আয়োজিত এই বিক্ষোভে আরএসএস নেতার সফরের নিন্দা জানানো হয় এবং বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে অবস্থিত একটি সার্বভৌম শিখ রাষ্ট্র খালিস্তানের উপর গণভোটের আহ্বান জানানো হয়।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন ‘খ্রিস্টান, দলিত, মুসলিম এবং শিখসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংস হামলায়’ ভূমিকার জন্য আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় এবং ভাগবতের ভিসা বাতিলের জন্যও চাপ দেয়।

এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর