রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭৫২, নিখোঁজ ২৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭৫২, নিখোঁজ ২৫০০

হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ঘটনার চার দিন পরও অন্তত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এতে প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ও পুলিশ।

নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, এখনো দুই হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে দুপুরে নিখোঁজের সংখ্যা আগের থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০২ জন হয়েছে, এর মধ্যে ৫৮৯ জনই বিদেশি। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে আট হাজার ১৮৬ জনকে। প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী এই উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হলেও এখনো ৩২০ পর্যটকের খোঁজ মেলেনি।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের ভূমিধসে ১৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও তিব্বতে ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ আছেন, যাদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক।

নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। তবে তিব্বতমুখী সীমান্ত পারাপারের পথে থাকা এসব নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে কতজন চীনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এদিকে বন্যা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, নেপাল ও তিব্বতে এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আকস্মিক বন্যা আরো নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। সেখানে আরেকটি বন্যা ছোট আকারে হলেও তা বিপর্যয়ে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি গবেষক জেফ দা কস্তা আমাকে জানান, এই দুর্যোগের ফলে ধ্বংসাবশেষগুলো বিভিন্ন নদী আটকে দিয়ে উজানে নতুন করে হ্রদ তৈরি করেছে।

আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকার অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তার ভাষায়, ‘প্রথমটির মতো বড় না হলেও দ্বিতীয় আরেকটি বন্যা হলে সেখানে বিপর্যয়ে গুরুতর প্রভাব তৈরি করতে পারে।’

তিনি বলেন, এলাকার হ্রদ ও প্রাকৃতিক বাঁধগুলোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা এবং সেগুলো কোথায় ভেঙে যেতে পারে তা নজরে রাখা এখন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

গবেষক আরও বলেন, চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উজানে যা ঘটে তা সীমান্তের ওপারের মানুষকে খুব দ্রুত প্রভাবিত করতে পারে।

দা কস্তা যোগ করেন, তথ্যকেও একই গতিতে প্রবাহিত হতে হবে এবং মাটিতে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এই দুর্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট, কারণ উষ্ণতা হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট এবং হিমালয়ের ঢালের স্থিতিশীলতা পরিবর্তন করছে।

তবে তিনি বলেন, আরও বিশ্লেষণ ছাড়া এই দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা যাবে না।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর