নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩২০ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরালার ৩৩ জন, তামিলনাড়ুর দুটি পৃথক দলের ৮৬ জন তীর্থযাত্রী এবং রিচা ট্যুরসের মাধ্যমে যাওয়া বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন নাগরিক রয়েছেন।
আরও পড়ুন
তবে জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা মানেই তারা নিখোঁজ বা আহত এমনটি নাও হতে পারে; মূলত দুর্যোগ কবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় তাদের সন্ধান পেতে সময় লাগছে।
তিরি আরও জানান, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন। এছাড়া নেপালের ত্রিশূলী-১ হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তিব্বত বা চীনের অংশে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ জন ভারতীয় নাগরিক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন এবং তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন ইতিমধ্যে স্থলপথে নেপাল সীমান্তে এসে পৌঁছেছেন।
জয়সওয়াল আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টধারী প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গেও এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও আটকে পড়াদের উদ্ধার ও অনুসন্ধানের জন্য নেপাল ও চীন প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখছে কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাস।
প্রসঙ্গত, নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএনআই, আনন্দবাজার
এমএইচআর




