শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তিব্বতে ভেঙে গেছে বাঁধ, ফের বন্যার শঙ্কায় নেপালে উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

তিব্বতে ভেঙে গেছে বাঁধ, ফের বন্যার শঙ্কায় নেপালে উদ্ধার অভিযান স্থগিত

তিব্বতে ভূমিধসের ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদ বা ব্যারিয়ার বাঁধ ভেঙে গেছে। এর ফলে নেপালের ভাটি এলাকায় নতুন করে বন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে এই জরুরি সতর্কতা জারি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিব্বত অংশে একটি পানির বাঁধ আবারও ভেঙে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত সকল নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বা ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করতে অনুরোধ করা হচ্ছে’। 

বিশেষ করে ভোট কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উদ্ধারকারী দলকে অনতিবিলম্বে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গত বুধবারের (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপাল সীমান্তের দুই পাশেই নদীর পানি আটকে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছিল। চীনের জিরং সীমান্ত পারাপারের ওপরের অংশে গঠিত ব্যারিয়ার বাঁধটি পানি উপচে পড়ে সেটি ভেঙে গেছে। এতে তিব্বতের কেন্দ্রস্থলে নতুন করে এই পানি ও কাদার স্রোত ধেয়ে আসার কারণে ওই এলাকায় তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

চীন সরকারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ স্থানে প্রস্তুত থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।’ 

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই নতুন সতর্কতা জারি করা হলো। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নেপালে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে আরও এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। 

প্রাকৃতিক বাধাটি ভেঙে আবারও ঢল নামার কারণে অতিরিক্ত কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধান এবং উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেলিকপ্টার, ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও নতুন দফায় বন্যা উদ্ধার কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।

সূত্র: এনডিটিভি, কাঠমান্ডুপোস্ট

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর