নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে যখন একের পর এক প্রাণহানির খবর আসছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙালি নারীর বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে। কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও চীনের ভিসা না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন কলকাতার বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী তাপতি সিংহ। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কলকাতাভিত্তিক একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১৩ দিনের এই তীর্থযাত্রার প্রস্তুতি চলছিল গত মে মাস থেকেই। পশ্চিমবঙ্গের আরও ৩২ জন তীর্থযাত্রী ওই যাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাপতির। দলের সদস্যরা নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক বৈঠক, কেনাকাটা ও ট্রেকিং প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছিলেন।
কিন্তু যাত্রার মাত্র কয়েক দিন আগে তাপতিকে জানানো হয়, তার চীনা ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণও তাকে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তাপতি জানান, প্রথমে বিষয়টি তাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছিল। কৈলাসযাত্রার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তিনি বিকল্প হিসেবে লাদাখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নেপালে ভয়াবহ বন্যার খবর আসার পর সেই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনাই তার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ পেতে শুরু করে।
এদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাপতির যে দলের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল সেই ৩২ পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কলকাতার যে ট্রাভেল এজেন্সি যাত্রাটির আয়োজন করেছিল, তাদের নেপালি অংশীদারও কোনো পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এজেন্সির চার কর্মকর্তা ইতিমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন এবং তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




