হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্তে ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধ ও সম্প্রতি ঘোষিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার এক শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় এই মার্কিন প্রস্তাবটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কেন্দ্রীয় শর্ত হলো—ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধ বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ কমানো, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধের অবসানের পথে যেতে পারে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করার পরই এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
এদিকে মার্কিন প্রস্তাবটি পাওয়ার পর ইরানের অভ্যন্তরে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করছে এবং দ্রুতই এর আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে।
তবে ইরান শুরু থেকেই তাদের অনড় অবস্থানে রয়েছে। তেহরানের দাবি, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানের সমুদ্রবন্দরের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৪ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
এরমধ্যেই ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ নৌ-চলাচল করিডোর স্থাপনের জন্য একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে বাণিজ্যিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
সূত্র: গালফ নিউজ, মিডল ইস্ট মনিটর
এমএইচআর




