বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেপালের বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

নেপালের বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ২৭০

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও বন্যা ও কাদার স্রোতে ভেসে গিয়ে দেশটিতে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত অংশেও ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৮৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান ব্যাপকভাবে চলছে। ফলে আরও মরদেহ উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন এবং অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন নাগরিক রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি। সেখানে মৃতের সংখ্যা তিনজনেই রয়েছে।

যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গিয়রংয়ের সীমান্ত এলাকায় পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত কয়েক ডজন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, নেপালে আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। 

লিন বলেন, চীন নেপালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তিনি আরও বলেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী চীন জরুরি সহায়তাও প্রদান করবে।

নেপালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বুধবারের বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো “চরম পরিস্থিতি” বিরাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় শুধু হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব, কারণ বন্যায় সেতু ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দল সেখান থেকে কিছুটা দক্ষিণে অবস্থান করছে এবং তারা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সেখানে যেতে পেরেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে হেলিকপ্টারে করে তাঁবু, খাবারসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে এর চেয়ে অনেক, অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি আরও যোগ করেন, অনেক গ্রাম ও বাজার এলাকা ভেসে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

এরআগে গতকাল বুধবার সকালে নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ৩ মিনিট পর এক বিধ্বংসী হড়পা বান (আকস্মিক বন্যা) ও ব্যাপক ভূমিধস আঘাত হানে। এতে তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে। 

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর