নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল (হড়পা বান) ও ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত মালভূমিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও বরফ গলার কারণে দেশটির সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙ-এর একাধিক গ্রাম ভেসে গিয়ে এই প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার ভোরে কোনো পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই বিকট শব্দে ভোতেকোশি নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। প্রলয়ঙ্কারী এই জলস্রোত মুহূর্তের মধ্যে রাসুয়া জেলার তিমুরে এবং সায়াপ্রু বেসি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় বাজার ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
🇳🇵 Horrifying footage from Nepal’s northern Rasuwa district, which was hit by a massive flash flood.
— Visegrád 24 (@visegrad24) August 26, 2026
At least seven people have been confirmed dead, and 20 people are reported missing. pic.twitter.com/m4PuqGqxJ2
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে চীন ও নেপালকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘মিতেরি সেতু’ (ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাসাং লামু মহাসড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়ায় রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্যমতে, বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটকরাও এই তালিকায় আছেন।
কাঠমান্ডু-ভিত্তিক টাচ কৈলাশ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাশু কুমার অধিকারী বলেছেন, ‘৯৩ জন নেপালিসহ ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর বুধবার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল।
দু-একজন ছাড়া বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমরা তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারিনি।’
অন্যদিকে রাসুয়া জেলায় দায়িত্ব পালনরত নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ জন সদস্যের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র উপ-মহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলে।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নির্দেশে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য ১৪টি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নদীর পানির উচ্চতা ও তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকা যেমন—তিমুরে এবং স্যাফরুবেশিতে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই আকস্মিক বন্যা নেপালের জাতীয় গ্রিডে বড় আঘাত হেনেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত অন্তত ৬টি বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ বা ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট
এমএইচআর




