ইরানের এবং তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেইজিং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিজেদের আইনানুগ ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে এতে বাধা সৃষ্টি করা বা এটি ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়।’
গতকাল সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং দেশটিকে পুরোপুরি একঘরে করতে বিশ্বব্যাপী ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেন, যারা ইরানের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
চীনা ব্যাংকগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নাগালের বাইরে কেউ নয়।’
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি’ আখ্যায়িত করে লিন জিয়ান বলেন, ‘চীন এই অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বেইজিং নিজস্ব অধিকার, সার্বভৌম বাণিজ্য নীতি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মুখে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। সম্পর্কটি এখন কৌশলগত রূপ নিয়েছে, যেখানে চীন প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের রণকৌশল ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এমন এক সময়ে এই কড়া বার্তা দিল, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যকে নতুন এক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




