ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আইআরজিসির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবস্থান এবং তাদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকায় ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের অত্যন্ত প্রভাবশালী পাঁচজন সামরিক ও গোয়েন্দা কমান্ডার স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ওয়াহিদি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মাজিদ খাদেমি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও তা বাস্তবায়নের সাথে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কে সাম্প্রতিক ড্রোন ও সাইবার হামলার পেছনে এই ব্যক্তিদের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে ওয়াশিংটন।
‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, “এই ব্যক্তিরা বিপ্লবী গার্ডের এমন সব ইউনিটের নেতৃত্ব দেন, যারা সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ধ্বংসাত্মক সাইবার অভিযানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে।”
মার্কির কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরস্কার ঘোষণার মূল কৌশল হলো আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ বলয়ে ফাটল ধরানো। এক কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের পাশাপাশি তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে উন্নত কোনো দেশে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে পুনর্বাসনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর মাধ্যমে ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তথ্য দিতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ইরান এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অবৈধ, একপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখার একটি অপকৌশল মাত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল তথ্য পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বড় অংশ। আইআরজিসিকে ২০১৯ সালেই একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমান এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা ইরানের আঞ্চলিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার সক্ষমতাকে রুখে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করল। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
এমএইচআর




