মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তেল রফতানি বন্ধের হুমকি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

শেয়ার করুন:

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তেল রফতানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
২৫০ দিনের বেশি সময় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সমুদ্রে অবস্থানের পর শিগগিরই ওই অঞ্চল ছাড়ছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরকারের আর্থিক সহায়তার পথ বন্ধ করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মার্কিন মিত্রদেরও নিষেধাজ্ঞাগুলো সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতকে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন। পাশাপাশি ইরানের তেল আয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ৬০টি প্রতিষ্ঠান, জাহাজ ও ব্যক্তিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করার অভিযান। বেসেন্ট এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি–ডে’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

ডি-ডে বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় আকারের সামরিক অবতরণকে বোঝায়। ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে ‘ডি–ডে’ বলার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রবাহিনীর অভিযানের তুলনা টানা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট ও ইরানের নেতৃত্ব কাজ করবে।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান।

তিনি বলেন, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলে সেটিকে যুদ্ধের শামিল পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোথাও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটন উড়িয়ে দিচ্ছে না।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই অঞ্চলের কোথাও সামরিক হামলার সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনার বাইরে রাখা হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর