সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিপাকে ভারতীয়রা

‘এইচ-১বি’ ভিসার ফি ১ লাখ ডলার করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘এইচ-১বি’ ভিসার ফি ১ লাখ ডলার করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশটিতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীরা মারাত্মক আর্থিক ও পেশাগত ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

সোমবা (২৪ আগস্ট) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এই ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। গত বছরও এই ধরনের একটি ফি আরোপ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে আদালতের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত হয়ে যায়।

কর্পোরেট ইমিগ্রেশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই নীতিমালার প্রস্তাবনাটি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসের ‘অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট’ (ওএমবি) বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে এটি পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। 

ওএমবি গত ১৯ ও ২০ আগস্টের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো গ্রহণ ও পর্যালোচনা শুরু করে। তবে এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত বিবরণী এখনো গোপন রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। 

ফ্রাগোমেন আরও জানিয়েছে, এইচ-১বি ছাড়াও এফ-১ অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) অ্যাপ্লিকেশনের ওপরও ১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ নতুন ফি যুক্ত করার কথা ভাবছে ডিএইচএস। 

বাতিল হতে পারে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড

এদিকে ভিসা ফি বাড়ানোর পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশী ও বেকার কর্মীদের সুরক্ষাকবচও তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন।

চলতি মাসের শুরুতে ডিএইচএস প্রস্তাব করে, চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য যে ৬০ দিনের সাধারণ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা সাময়িক থাকার সুযোগ দেওয়া হতো, তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে। 

এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে, চাকরি চলে যাওয়ার সাথে সাথে বিদেশি কর্মীদের কোনো রকম সময় না দিয়ে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তারা অভিবাসন আইন বা স্ট্যাটাস লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। আকস্মিক চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত অমানবিক ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

ভারতীয়দের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে এই ফি বৃদ্ধি একটি বড় ধাক্কা। বিশেষ করে ভারতীয়রা এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট এইচ-১বি ভিসা সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। 

২০২৪ সালের একটি সরকারি তথ্য থেকে জানা যায়, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪০২টি এইচ-১বি ভিসা আবেদন অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের। 

ফ্রাগোমেন একটি নোটে জানিয়েছে, পূর্বের সাধারণ ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের তুলনায় এটি একটি আকাশচুম্বী বৃদ্ধি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন নিয়োগকর্তারা এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশি কর্মী স্পন্সর করতে নিরুৎসাহিত হবেন, যা ভারতীয় আইটি ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের জন্য বড় সংকট তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লাখেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতি শুধু যে কর্মীদের ওপর আর্থিক বোঝা চাপাবে তা নয়, বরং উচ্চশিক্ষা শেষ করে মার্কিন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর