৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসী কর্মীদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) ইস্যু এবং পুরোনো পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ওমান সরকার। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই কড়াকড়ি কার্যকর করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটিতে কর্মরত কয়েক লাখ প্রবাসী।
মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, ২০২২ সালে ওমান সরকার ৬০ বছর বয়সের পরও প্রবাসীদের বেসরকারি খাতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে সুযোগ দিয়েছিল, বর্তমান এই নির্দেশনার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো।
রয়্যাল ওমান পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে কাজের ভিসার বৈধ বয়সসীমা ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত সীমিত থাকবে।
প্রবাসী কর্মীর নিয়োগকর্তারা জানিয়েছেন, ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে ৬০ ঊর্ধ্ব কর্মীদের পারমিট নবায়নের আবেদন করলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বরছেন, এই কড়াকড়ি মূলত ওমান সরকারের ‘ওমানাইজেশন’ বা শ্রমবাজারের জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার অংশ। ওমানি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে স্থানীয় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। প্রবীণ প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নিতে বাধ্য করার মাধ্যমে সেই শূন্যস্থানগুলোতে স্থানীয় ওমানি তরুণদের নিয়োগ দেওয়ার পথ সুগম করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
তবে দেশটির বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানের আইটি, কনস্ট্রাকশন এবং ম্যানেজমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বছরের পর বছর ধরে অভিজ্ঞ প্রবাসীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক ধাক্কায় এই দক্ষ জনবলকে বিদায় দিলে ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের পেছনে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আগাম কোনো আনুষ্ঠানিক সাধারণ বিজ্ঞপ্তি বা সময় না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের প্রবাসী কর্মীরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রবাসী কর্মীকে এখন দ্রুত চাকরি হারিয়ে ওমান ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওমানে শ্রম দিয়ে আসা এই প্রবীণ কর্মীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন। হঠাৎ কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে হলে তাদের পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে, যা বাংলাদেশের মতো রেমিট্যান্স-নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: গালফ নিউজ, আরব টাইমস
এমএইচআর




