সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কলকাতায় দুইদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, চরম বিপাকে বাংলাদেশি 

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

কলকাতায় দুইদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, চরম বিপাকে বাংলাদেশি 
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মারকুইজ স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিট সংলগ্ন নিউমার্কেট এলাকা—যা বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত— এখন এক নজিরবিহীন আবাসন সংকটে রূপ নিয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অমান্য করার দায়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় প্রশাসন ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ সিলগালা করে দিয়েছে। আকস্মিক এই অভিযানে রাতারাতি কলকাতার রাজপথে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসা প্রত্যাশীরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৯ জন নিহত হন। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি), গঠিত হয় বিশেষ টাস্কফোর্স। 

কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত এই টাস্কফোর্স গত দুদিন ধরে মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অভিযানে অংশ নেন। 

অভিযানে দেখা যায়, অধিকাংশ হোটেলেই দমকল বিভাগের ছাড়পত্র বা ফায়ার লাইসেন্স নেই। জরুরি নিকাশি সিঁড়ি (ফায়ার এক্সিট) না থাকা, সংকীর্ণ প্রবেশপথ এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এগুলো পরিচালনা করা হচ্ছিল। জনস্বার্থে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এই ২২১টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেয়।

ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য 

এদিকে হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক চরম বিপাকে পড়েছেন। খোলা থাকা বাকি হোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র সিট সংকট। অনেক পর্যটককে ব্যাগ- লাগেজ নিয়ে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। বিশেষ করে পরিবার, নারী ও শিশুদের নিয়ে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু হোটেল মালিক রুমের ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। 

পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, শনিবারও যে রুমের ভাড়া ছিল দেড় হাজার রুপি, রোববার তা তিন থেকে চার হাজার রুপি দাবি করা হচ্ছে। 

চিকিৎসা প্রত্যাশীদের দুর্ভোগ ও দেশে ফেরার হিড়িক

এদিকে কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই আসেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই রোগীরা আকস্মিক এই হোটেল সংকটে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একদিকে চিকিৎসার চড়া খরচ, অন্যদিকে হোটেলের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অনেক পর্যটক ও রোগী তাদের পূর্বনির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করছেন।

মারকুইজ স্ট্রিটের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে টিকিট কাটার জন্য উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাস ও ট্রেনের জরুরি টিকিট কেটে অনেকেই দ্রুত দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।

কলকাতা হোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও পর্যটকদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন। 

তবে কলকাতা পৌরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ব্যবসাই চলতে দেওয়া হবে না। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সিলগালা করা হোটেলগুলো খোলার অনুমতি দেওয়া হবে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর