রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকাকে ‘নতুন বার্তা’ জয়শঙ্করের

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

শেয়ার করুন:

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকাকে ‘নতুন বার্তা’ জয়শঙ্করের
শেখ হাসিনা প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা-দিল্লির টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একটি মন্তব্য দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জয়শঙ্কর বলেছেন, যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর ও টেকসই হতে হলে তা ‘পারস্পরিক স্বার্থের’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও তার বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের প্রত্যাশার দিকটি স্পষ্ট হয়েছে।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর হতে হলে তাকে পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সম্পর্কটি আমাদের জন্যও কল্যাণকর হতে হবে।’

আরও পড়ুন

হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের ভিন্ন সুর!

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দুই বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পরও হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। একই সময়ে তার ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

Hasina-India
জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা দুই বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত এমন প্রত্যাশা করে না যে, প্রতিবেশীরা কেবল ভারতের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। একইভাবে ভারতও প্রতিবেশীদের স্বার্থ বোঝা ও সম্মান করার চেষ্টা করে। তার ভাষায়, দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে একটি ‘যুক্তিসঙ্গত ভারসাম্য’ থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন কি বাড়ছে?

জয়শঙ্করের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো উত্তরই দেননি। এর পরিবর্তে তিনি সম্পর্কের জন্য ‘মিউচুয়ালিটি’ বা পারস্পরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

কূটনৈতিক ভাষায় এ ধরনের বক্তব্য অনেক সময় সরাসরি অবস্থান ঘোষণার পরিবর্তে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে দিল্লি হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে আপাতত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করতে চায়, তার সঙ্গে সম্পর্কের অন্যান্য স্বার্থের প্রশ্নকে একসঙ্গে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: দ্য প্রিন্ট, আনন্দবাজার

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর