প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর আগে শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চারপাশের এলাকা ব্যারিকেড, ভ্যান দিয়ে ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। সেখানে সাঁজোয়া যানও টহল দিতে দেখা যায়।
শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সাবেক এই ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে।
হাসপাতালে স্থানান্তরের পাশাপাশি আদালতের ওই আদেশে ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তিনি কয়েক মাস ধরে করতে পারছিলেন না।
তারার জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ইমরান খানের বোন আজমা খান কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসা পরীক্ষার সব ধাপেই তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সাধারণত তার বিরুদ্ধে যাওয়া আদালতের সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। ইমরান খান নিজেও তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে আসছেন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পর্দার আড়ালে কোনও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে দলটি প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
আদালত ইমরান খানের দলকে হাসপাতালের বাইরে কোনও সংবাদ সম্মেলন না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা মূলত তার হাসপাতালে থাকাকে রাজনৈতিক রূপ না দেওয়ার একটি সতর্কতা।
একই সঙ্গে হাসপাতালের বাইরে জড়ো না হতে সমর্থক ও পিটিআই সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারকরা।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি দৃষ্টিশৈথিল্যসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
গত ফেব্রুয়ারিতে তার আইনজীবী অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইমরান খানের ডান চোখের মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
এআরএম




