ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী বিশাখাপত্তনমে হোমওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ না করার অপরাধে শিক্ষকের চড়ের আঘাতে শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক সকালে ৯টার দিকে ওয়ান টাউন এলাকায় স্থানীয় ‘লিটল গার্ডেনস স্কুল’-এ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
মৃত শিশুটির নাম প্রণয় তেজা, সে ওই স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির (ইউকেজি) শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শিশুটি আগের দিনের হোমওয়ার্ক না করায় এবং প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নারী শিক্ষক। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে চড় মারেন এবং ক্লাসের সবার সামনে তাকে লজ্জিত করার চেষ্টা করেন।
শ্রেণিরকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই নারী শিক্ষক শিশুটির জামা টেনে ধরছেন এবং তাকে চড় মারছেন। চড় মারার পরপরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে প্রথমে শিক্ষকের গায়ের ওপর ঢলে পড়ে এবং পড়ে মেঝেতে পড়ে যায়।

শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কিং জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে ‘ব্রট ডেড’ বা মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র আতঙ্ক বা আঘাতের কারণে শিশুটি হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসরোধ হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে খবর পেয়ে প্রণয়ের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রণয় বৃহস্পতিবার সকালে সুস্থ অবস্থাতেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। এসময় সময় শিশুটির মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তারা তার মৃত্যুর খবর পান। তার বাবা জানান, শিশুটি নিজেই সেদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল।
তিনি বলেন, ‘সকাল প্রায় ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে বলল যে সে স্কুলে যেতে চায়। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য জেদ করছিল।’
প্রণয়ের বাবা জানান, দুপুরের দিকে তিনি একটি ফোন কল পান, যেখানে তাকে জানানো হয় যে তার ছেলের সাথে কিছু একটা ঘটেছে, যদিও ফোনটি সরাসরি স্কুল থেকে আসেনি।
তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে আমাকে কেউ ফোন করেনি, আমার শ্যালকের বাসার কাছে কাজ করা কিছু লোক ফোন করে আমাকে জানিয়েছে’।
হাসপাতালে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন প্রণয় মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাদের জানিয়েছিলেন যে হাসপাতালে আসার আধা ঘণ্টা আগেই আমার ছেলে মারা গিয়েছিল।’
ছেলের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল এবং তার কোনো পূর্ব অসুস্থতা ছিল না। গত রাতেও সে খুব আনন্দের সাথে খেলছিল এবং আজ সকালেও ভালোভাবে ঘুম থেকে উঠেছে। তার কোনো ভাইরাল জ্বর বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না।’
এদিকে বিশাখাপত্তনম পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




