মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গরাজ্য ক্যালিফর্নিয়াকে নিজেদের ভূখন্ড হিসেবে ঘোষণা করল মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী মুসলিম দেশ ইরান।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেন দেশটির ‘পাগলাটে’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন পরই ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের নতুন ভূখণ্ড ঘোষণা করে তারই পাল্টা দিলেন মোস্তফা খামেনিরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টুইট করা হয়েছে। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে লেখা হয়েছে, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’
এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে হরমুজের ওপর লেখা হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড।”
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, হরমুজকে তিনি মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেবেন। মঙ্গলবার করা তার পোস্টটি হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়।
এদিকে ট্রাম্পের এমন পোস্টের পর এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী ঘিরে তার এই দিবাস্বপ্ন খুব দ্রুতই ভাঙবে। তা না হলে, বিভ্রান্ত এই লোকটির ভুল ধারণা আমরাই ভেঙে দেব।’
কয়েক মাসের চলমান সংঘাতের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি এই বক্তব্যগুলো সামনে এলো।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস শহরে ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করেন। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষ আছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইরানিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। লস অ্যাঞ্জেলসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানিদের জন্য প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে। এমনকি ওই জায়গাটিকে তেরহান অ্যাঞ্জেলস বলেও ডাকা হয়।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি বিস্তৃত চুক্তির পথ সুগম করার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়মকানুন নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়ে।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় না পৌঁছানোয় এবং হরমুজি প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাঙ্কার চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দাম। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।
এএইচ




