বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় পতনের মুখে পড়েছিল স্বর্ণের দাম। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার হ্রাস পাওয়ার কারণে সেই ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। তবে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে যদিও আগের সেশনে প্রায় ২ শতাংশ পতন হয়েছিল মূল্যবান ধাতুটির দাম।
একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এরআগে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী বন্ড বিক্রির চাপে প্রধান অর্থনীতিগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে এগিয়ে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণ বা রুপার মতো অনুৎপাদনশীল মূল্যবান ধাতু রাখার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে এবং এগুলোর মূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
সাধারণত বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত আয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে যে সমস্ত সম্পদে কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না (যেমন স্বর্ণ), সেগুলোর আকর্ষণ সাময়িকভাবে কমে যায়।
ওএএনডিএ-এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওয়াং বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান রাজস্ব বাজেট সংক্রান্ত উদ্বেগ বৃদ্ধি স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পেছনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, আগামী মাসে ফেডের নীতি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা শতকরা ৬৭ শতাংশ এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ।
এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও কমেছে রুপার দাম। বুধবার দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স স্পট সিলভার ৬৩ দশমিক ২২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২০ দশমিক ৪৩ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ হাজার ২৯০ দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




