গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কুখ্যাত ও উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
তিনি বলেছেন, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নয়, আরও অনেক বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত।
দখলদার দেশটির কুখ্যাত এই মন্ত্রীর মানবতাবিরোধী মন্তব্যের কারণে বিশ্বব্যাপী তার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে। খবর পলিটিকো ও আনাদোলুর।
জার্মানির ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল জোটের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা সোমবার (১৭ আগস্ট) ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) উগ্রপন্থী ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। বেন-গভির গাজায় প্রতি রাতে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে হত্যার পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন।
ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন/ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিডিইউ/সিএসইউ) সংসদীয় দলের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়ুর্গেন হার্ডট মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে বলেন, বেন-গভিরের অমানবিক বক্তব্যের জন্য আমরা সবাই তার নিন্দা জানাই।
হার্ডট বলেন, “মানব মর্যাদা ও মানবাধিকারের সার্বজনীন বৈধতার প্রতীক হিসেবে ইইউর উচিত তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, বেন-গভিরবিহীন একটি ইসরায়েলি সরকার ইসরায়েল ও ইউরোপকে আরও কাছাকাছি আনতে সাহায্য করবে।
বেন-গভির এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ইসরায়েলের উচিত তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের ওপর হামলা সীমাবদ্ধ না রেখে, গাজায় প্রতি রাতে ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে হত্যা’ চালাতে হবে এবং প্রতিরাতে কমপক্ষ্যে ‘৩০ বা ৪০’ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে হবে। এর পরেই হার্ডটের এই মন্তব্য আসে।
সিডিইউ-এর সদস্য চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলের সরকারের ওপর ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হার্ডটের এই দাবি চাপ বাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এর আগেও বেশ কয়েকটি দেশ বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করেছে, কিন্তু ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
-এমএমএস




