মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ব্রিটিশ ড্রোন দিয়ে হামলা ইউক্রেনের, লন্ডনকে পরিণতি ভোগের হুমকি রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রিটিশ ড্রোন দিয়ে হামলা ইউক্রেনের, লন্ডনকে পরিণতি ভোগের হুমকি রাশিয়ার

যুক্তরাজ্যের তৈরি বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার এবং প্রধান অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোতে একের পর এক দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এই হামলায় রাশিয়ার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার পর লন্ডনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠিন ‘পরিণতি’ ও ‘ভয়াবহ মূল্যের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। 

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাজ্য সচেতনভাবে ইউক্রেন সংকট আরও তীব্র করার পথ বেছে নিয়েছে এবং সন্ত্রাসী হামলার অংশীদার ও সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লন্ডনের এই পদক্ষেপের অনিবার্য পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এই সংঘাতে লন্ডন যত বেশি জড়িয়ে পড়বে, তাদের তত বেশি চড়া মূল্য দিতে হবে।’  

মূলত, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ও দ্য۔۔ সানডে টাইমস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই প্রথম সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, বিগত ছয় মাস ধরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানতে দুটি ব্রিটিশ কোম্পানির ড্রোন ব্যবহার করছে ইউক্রেন। এসব হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ, রোস্তভ ও মস্কোর নিকটবর্তী বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো এবং রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর প্রধান লজিস্টিক হাবগুলো। 

রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত এই কোম্পানিটিকে ইউক্রেন বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং জানিয়েছে, ওয়াইল্ডবেরিজের শীর্ষ ১০টি লজিস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৭টিই ‘অকার্যকর’ করা হয়েছে।

এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ব্রিটিশ ড্রোন প্রযুক্তির নিখুঁত আঘাতের ফলে রাশিয়ার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন আরও হয়, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা জায়ান্ট বিএই সিস্টেমসের-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালেন-লেঞ্জ’-এর তৈরি জেট-চালিত ‘নিয়ান’ ড্রোন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও নিশ্চিত করেছেন, রোস্তোভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলার একটি জ্বালানি ডিপোসহ রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ব্রিটিশ উপাদান ও কনফিগারেশনযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে মস্কো যুক্তরাজ্যকে এই সতর্কবার্তা দিল। গত শনিবার রাতে ইউক্রেন রাশিয়ার দিকে প্রায় ৮২২টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৬০০টির লক্ষ্য ছিল মস্কো। এতে কমপক্ষে সাতজন নিহত হন। সর্বশেষ সোমবারও ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়াজুড়ে এক শিশুসহ ৯ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে রাশিয়ার হুমকির জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, ‘যুক্তরাজ্য ইউক্রেন এবং আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় এই সরকারের দৃঢ় সংকল্প সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’

তিনি আরও জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে রক্ষার্থে তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে চলতি বছরে এক লাখ ৫০ হাজরের বেশি ড্রোন, রুশ বিমান নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করার মতো অত্যাধুনিক ‘স্টোন ক্লোয়াক’ ডিভাইস এবং কম খরচের উদ্ভাবনী ক্রুজ মিসাইলের প্যাকেজও রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর অন্যতম প্রধান এবং পারমাণবিক শক্তিধর সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের এই শক্ত অবস্থান মস্কোকে আরও বেশি কোণঠাসা করে তুলেছে। এছাড়াও যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহারে কিছুটা সীমাবদ্ধতা মেনে চললেও, এই ব্রিটিশ ড্রোন হামলাগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে সম্পূর্ণ নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে। 

অন্যদিকে রাশিয়ার মাটিতে সরাসরি ব্রিটিশ ড্রোনের এমন বিধ্বংসী ব্যবহার ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সরাসরি এবং পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বকে এক নতুন বৈশ্বিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর