মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বজুড়ে এক বছরে ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহতের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বজুড়ে এক বছরে ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহতের রেকর্ড
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত-সহিংসতার মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে গিয়ে গত বছর অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এই কর্মীদের বৃহৎ একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছেন গাজা ও সুদানে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এমন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা ২০২৪ সালের চেয়ে কিছুটা কম। ওই বছর বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) এই তথ্য জানিয়েছে। গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের বরাত দিয়ে ওই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ওসিএইচএ।

সংস্থাটি বলেছে, টানা তৃতীয় বছরের মতো দাতব্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হয়ে ওঠা গাজাতেই নিহত হয়েছেন প্রায় ১৮৬ জন কর্মী। এর পরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন আফ্রিকার দেশ সুদানে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বিবৃতিতে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মাত্র তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে; যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, তবে শুধু নিন্দা জানিয়েই পরবর্তী ত্রাণকর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে এবং বেসামরিক নাগরিক ও আমাদের সহকর্মীদের সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা এই নিয়ম ভাঙবে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

এদিকে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। বিবৃতিতে সংঘাত কবলিত অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র ড্রোন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওসিএইচএ।

সংস্থাটি বলেছে, অস্ত্রসজ্জিত এসব ড্রোন বহু মানুষের হাতে প্রাণঘাতী ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে এবং শহর-নগরগুলোতে ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরকের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

সুদানের পরিস্থিতি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ড্রোন হামলায় দেশটিতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ; যা সেখানকার হাট-বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় প্রাণহানির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

টম ফ্লেচার বলেন, সশস্ত্র ড্রোন এখন এক পুরোনো বিপদের নতুন রূপ হিসেবে দেখা দিয়েছে; আর সেটি হলো— সাধারণ মানুষের জীবন ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা।

সূত্র: এএফপি

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর