ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নেসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর হওয়ায় ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়ে থাকতে পারে।
ফ্লোরেস অঞ্চলটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নেসা তেঙ্গারা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। অঞ্চলটিতে রয়েছে আটটি রিজেন্সি বা স্থানীয় সরকার ইউনিট।
এর আগে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) একই প্রদেশে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল ফ্লোরেস অঞ্চলে এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে ৩৪১টি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়।
শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে পূর্ব নেসা তেঙ্গারার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশেও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর সুমাত্রার অন্যতম বড় শহর পেমাতাংসিয়ানতার থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৮৩ দশমিক ২ কিলোমিটার।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে গত রোববার পূর্ব নেসা তেঙ্গারা প্রাদেশিক সরকার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অন্তরা নিউজ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরদিন ফ্লোরেস অঞ্চলে নতুন করে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
/এএস




