রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ইরান-ওমানের চুক্তি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ইরান-ওমানের চুক্তি 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ওমানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই শনিবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়েই বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বাধার মধ্যেই ইরান ও ওমান তিন সপ্তাহ ধরে এ ইস্যুতে আলোচনা করেছে। সেই আলোচনার ফলাফল এ চুক্তি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

যুক্তরাষ্ট্রের বাধা সত্ত্বেও গত তিন সপ্তাহে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছিলেন, “যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর, বলা ভালো খুব খারাপভাবে পরাজিত করার পর, শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।”

তিনি এই বক্তব্য দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ওমানের সঙ্গে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য নিশ্চিত করলেন ইসমাইল বাঘায়েই।

এ ইস্যুতে এখনও ইরান কিংবা ওমান সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বাঘায়েই বলেছেন, চুক্তিতে কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে এবং সেসব নিয়ে আলোচনা-মতবিনিময় চলছে। 

আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই বিষয়গুলোর মীমাংসা হবে। তারপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারটি প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালির এক পাশে ইরান, অপর পাশে ওমান। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথগুলোর মধ্যে একটি। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি পণ্যের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে দিয়েই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ।

যুদ্ধের প্রথম দিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজের চলাচলে অবরোধ জারি করেছিল ইরান। এর পাল্টা জবাব হিসেবে এপ্রিলে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রও।

প্রায় ৩ মাস পর ১৭ জুন ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান; কিন্তু গত ৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসি হামলা করার পর ফের উস্কে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে হরমুজে ফের অবরোধ জারি করে তেহরান। 

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর পাল্টা অবরোধ জারি করে। এখন পর্যন্ত এই অবস্থাই চলছে। দেফা প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি হলো দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্বাধীন চুক্তি, যার লক্ষ্য উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর এবং হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ কার্যকলাপ’, সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধের অবসান এবং গত দুই মাসে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের ওপর।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর