আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু এবং দেশটির খনিজ সম্পদ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী।
শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।
মুত্তাকী বলেন, ‘আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি নতুন সম্পর্ক চায়। ফলে ওয়াশিংটনের উচিত কাবুলের দূতাবাস পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ইতিবাচক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করা।
এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ (খনি), বাঁধ ও সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করার অনুরোধও জানান।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা (আলেবান সরকার) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করি।’
তবে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মুত্তাকী। তিনি বলেন, ‘আফগানরা দেশে আরেকটি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না’।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পূর্তি প্রাক্কালে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাওয়া এই বার্তাটি এলো। বিশেষ করে তালেবান সরকার তার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে এবং বিদেশী সরকারগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসারিত করতে চাইছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাবুল রাশিয়া, উজবেকিস্তান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে তার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তালেবান সরকারের এই আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আবাসিক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আগ্রহের বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর তাদের গুরুত্বারোপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে’।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এখনই তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, তালেবান আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনতে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা হলেই কেবল তারা তালেবানের সাথে আলোচনা করবে।
সূত্র: খামা প্রেস
এমএইচআর




