শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় ফের আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এবার দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। 

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বেএমকেজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে পেমাতাংসিয়ান্তারের ১৩ কি.মি. পশ্চিমে কেন্দ্রস্থলের ১৬৩ কিমি গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ভূমিকম্প যেখানে সংঘটিত হয়েছে সেখানকার মানুষ এটি অনুভব করেছেন। তবে এই ভূমিকম্পের প্রভাবে তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, জানালা ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি ছাড়া বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এরআগে শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে তেনেগ্গারা প্রদেশের পূর্ব নুসার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে।

তীব্র কম্পনের পর উপকূলীয় নাগেওকেও, সিক্কা ও পূর্ব নুসা তেংগারা এলাকায় সমুদ্রের পানি হঠাৎ সরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সুনামি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা সঙ্গে সঙ্গে সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরবর্তীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বড় কোনো বিপদের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ভৌগলিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে। ইউরোপ ও এশিয়ার টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে কারণে এই অঞ্চলটি এমনিতেই বেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। তার ওপর দেশটিতে রয়েছে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এসব কারণে ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দাদের নিয়মিতই ভূমিকম্প মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়।

গত কয়েক মাসে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক বড় ভূমিকম্প ঘটেছে। চলতি বছরের ইন্দোনেশিয়ার মাজু দ্বীপের কাছে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে একাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়ে এবং অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরআগে ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুরে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জন এবং ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন।

সূত্র: ভলকানো ডিসকভারি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর