ইরানকে একটি ‘অত্যন্ত দুষ্ট’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে তেহরানকে বিরত রাখার জন্য মার্কিনিদের জ্বালানি তেলের দাম সামান্য বেশি দেওয়া মেনে নেওয়া উচিত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।]
ট্রাম্প বলেন, ‘একটি অত্যন্ত দুষ্ট দেশ (ইরান) যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি অর্থ প্রদান করাটা যুক্তিযুক্ত।’
মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগরিই তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বিশ্ববাসীর জন্য একটি ‘বড় সেবা’ হিসেবে উল্লেখ করে এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান আক্রমণের জন্য কখনই দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন না তিনি।
এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বর্তমানে ব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে’।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ‘এই প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং কল্পনাবিলাসে লিপ্ত হওয়া বন্ধ করছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ কার্যকর করে যাবে।’
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘একটি টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে, একটি আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না’।
অন্যদিকে শনিবার ইরানি সংবাদমাধ্যম শহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত ইরান নেয়নি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনকারী জলপথে (হরমুজ) জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে হলে ওয়াশিংটনকে প্রণালীটি সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রম্পের শুরু করা সামরিক ও অর্থনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার কোনো অগ্রগতি হয়নি। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধর প্রভাবে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪.০৮ ডলারে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।
যদিও রিপাবলিকান ট্রাম্প জ্বালানি খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিকে একটি ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন
এমএইচআর




