বেলজিয়ামে একটি নির্মাণাধীন ভবন সংস্কার করার সময় প্রায় ৯০ লক্ষ ইউরো (১ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৭ কোটি টাকা) মূল্যের লুকানো স্বর্ণের বার ও প্রাচীন মুদ্রা খুঁজে পেয়েছেন শ্রমিকরা।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির পূর্ব ফ্লেমিশ অঞ্চলের ডেন্ডারমন্ড শহরের একটি ভবনে সংস্কারকাজের সময় এই অপ্রত্যাশিত স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ‘বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ’ পাওয়ার পরও শ্রমিকরা সততার পরিচয় দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের খবর দেয়। পুলিশ এসে সমস্ত সোনার তালিকা তৈরি করে ফেডারেল সরকারের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা ভল্টে স্থানান্তর করেছে।
পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজে ৪৯টি স্বর্ণের বার এবং স্তূপ করে রাখা এক বালতি স্বর্ণ মুদ্রার ছবি প্রকাশ করেছে।

বেলজিয়ামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্বর্ণের বার ও মুদ্রাগুলো একটি বাড়ির ভূগর্ভস্থ কক্ষের দেয়ালের মধ্যে ইটের আড়ালে লুকানো ছিল। বাড়িটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থা সিএডব্লিউ ইস্ট-ফ্ল্যান্ডার্সের মালিকানাধীন।
বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম ভিআরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোবি নামের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিস শ্রমিক, যিন প্রথম স্বর্ণটি দেখতে পান- বলেন, স্বর্ণ পাওয়ার পর তাদের ‘প্রথম প্রতিক্রিয়াই ছিল অবিশ্বাস ও বিস্ময়।’
তিনি জানান, ‘পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য পাইপ বসাতে মাটি খোঁড়ার সময় আমরা এগুলোর সন্ধান পাই। সেখানে স্বর্ণ পাওয়া যাবে-এটা আমরা কোনোভাবেই আশা করিনি।’
এদিকে এ ঘটনার প্রকাশ্যে আসকেই অনেক অতি-উৎসাহী মানুষ ও গুপ্তধন সন্ধানীরা এলাকায় ভিড় করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
পুলিশের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন গুপ্তধন সন্ধানী আবারও ওই জায়গায় যেতে চাইছেন।’ স্বর্ণর সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশ বিভাগটি তাদের প্রোফাইল ছবিও একটি স্বর্ণর মুদ্রার ছবি দিয়ে পরিবর্তন করেছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া এই বিপুল স্বর্ণের আইনগত মালিক কে তা এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস বর্তমানে এর উৎস নিয়ে তদন্ত করছে।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী এই সোনা হস্তান্তরের একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, আগামী ৫ বছর বা ১ হাজার ৮২৩ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণসহ এই স্বর্ণের প্রকৃত ও বৈধ মালিকানা দাবি করতে পারেন, তবে তিনি এটি পাবেন। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ মালিকের খোঁজ না মেলে এবং এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তবে আইন অনুযায়ী এই বিশাল সম্পদ ভবনটির মালিক (দাতব্য সংস্থা) এবং উদ্ধারকারী নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে সমভাগে (৫০-৫০) ভাগ করে দেওয়া হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




