‘বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে ভারতকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হতে হবে। আমরা আর অন্য কারও ওপর নির্ভর করে থাকব না’— ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশ্যে বড় বার্তা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ রোডম্যাপও ঘোষণা করেন তিনি।
শনিবার ( দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির টানা ১৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ।
ভাষণে ২০২৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশকে একটি সম্পূর্ণ উন্নত ও আত্মনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, প্রতিরক্ষা, সবুজ অর্থনীতি এবং সফট পাওয়ার (সাংস্কৃতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব)—এই সাতটি ক্ষেত্রের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি ‘সপ্তধারা’ কাঠামো ঘোষণা করেন তিনি।
আত্মনির্ভরতা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অগ্রগতির জন্য ভারতকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হতে হবে এবং নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশ্বে অনেক জিনিস সস্তা বা সহজে পাওয়া গেলেও, তা দেশের নিজস্ব দক্ষতা বা শক্তি তৈরি করে না। তাই ভারতকে নিজেই নিজের স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশী’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
মোদি আরও বলেন, “একসময় ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্রাজাইল ফাইভ’ বা ভঙ্গুর পাঁচটি অর্থনীতির তালিকায় রাখা হতো। কিন্তু বিজেপি সরকারের গত ১২ বছরের কঠোর পরিশ্রমে আজ ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।”
যুবসমাজকে ‘বিকশিত ভারত’-এর মূল ভিত্তি বলে অভিহিত করে মোদি বলেন, ‘আমি দেশের যুবসমাজের উপর আস্থা রাখি। দেশের মা-বোনেদের উপর আস্থা রাখি, কৃষক ও শ্রমিকদের উপরও আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমরা একসঙ্গে এই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পারব।’
এসময় তরুণ প্রজন্মকে কর্মসংস্থান ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী এক বছরে দেশের এক কোটি যুবককে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হবে। এছাড়াও দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার খরচের বোঝা কমাতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং-এর ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে গ্লোবাল হাব বানানোর ওপর জোর দেন মোদি।
তিনি জানান, ভারতের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান মোদি।
অন্যদিকে ভারত যাতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস সফলভাবে আয়োজন করতে পারে এবং পদক তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, সেজন্য ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে দেশজুড়ে একটি ব্যাপক ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি, নিউজ১৮
এমএইচআর




