শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

১৯৪৭ সালে মোদি থাকলে ভারত ভাগ হতো না: যোগী আদিত্যনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

১৯৪৭ সালে মোদি থাকলে ভঅরত ভাগ হতো না: যোগী আদিত্যনাথ

১৯৪৭ সালে যদি ভারতের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তার মতো কোনো নেতা থাকতেন, তবে ভারতের বিভাজন ঘটত না— বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এছাড়াও বাংলাদেশকে জোর করে হিন্দু গ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে লখনউতে ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব দাবি করেন তিনি।

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত ভাগ হতো না। বর্তমান বাংলাদেশ, পাকিস্তান সব ভারতের অংশই থাকত। তৎকালীন কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমতার লোভ এবং তোষণ নীতির কারণেই দেশভাগ ও এর পরবর্তী সময়ে লাখ লাখ মানুষের ওপর সহিংসতা ও দাঙ্গা নেমে এসেছিল। 

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় (১৯৪৭) নরেন্দ্র মোদী যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কেউই ভারতের সামান্যতম ক্ষতিও করতে পারত না। যদি সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কেউই ভারতকে বিভক্ত করতে পারত না... এই কংগ্রেস সদস্যদের কাপুরুষতার জন্য দেশকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে — এমন চরিত্র আপনারা সবাই সিএএ বিক্ষোভের সময় দেখেছেন।’

আদিত্যনাথ আরও দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এমন ভূখণ্ডের অংশ পেয়েছিল, যা তারা কখনও চায়নি। তরে মতে সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বাংলার মতো হিন্দু ও বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো কংগ্রেসের কারণে জোরপূর্বক পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশসহ) অংশ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘সিন্ধু ছিল একটি হিন্দু-অধ্যুষিত ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা, যা জোরপূর্বক পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল; একইভাবে পাঞ্জাবি-অধ্যুষিত পাঞ্জাবও হস্তান্তর করা হয়েছিল। বাংলা ছিল বাঙালি-শাসিত। সমস্ত হিন্দু গ্রাম জোর করে বর্তমান বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই লজ্জাজনক কাজটি করেছিল কংগ্রেস, যারা ক্ষমতার জন্য অতিরিক্ত অস্থির ছিল এবং যাদের ওপর দেশ আস্থা রেখেছিল। তারা সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে।’

কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার সময়েও কংগ্রেস নীরব ছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা আশঙ্কা করেছিল যে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখালে এখানকার তাদের ভোটব্যাঙ্ক সরে যেতে পারে। তাদের কাছে দলিত হিন্দুদের হত্যার কোনো গুরুত্ব নেই; যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো তাদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক।’

প্রসঙ্গত, যোগী আদিত্যনাথ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তার বক্তব্য ও নীতি প্রায়শই মুসলিম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ-বিরোধী হিসেবে আলোচিত হয়। 

ভারতের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু স্বার্থ রক্ষা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

এছাড়াও তার শাসনামলে উত্তর প্রদেশের ‘এলাহাবাদ’-কে ‘প্রয়াগরাজ’, ‘ফয়জাবাদ’-কে ‘অযোধ্যা’ সহ বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত ঐতিহাসিক শহর ও স্থানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া গরু জবাই এবং হিন্দু-মুসলিম ‍বিয়ে ঠেকাতে কঠোর আইন প্রণয়ন করায় তাকে মুসলিমবিরোধী হিসেবেই দেখেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ডেকেন হেরাল্ড

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর