পাকিস্তানের করাচি শহরে দেশটির ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আনন্দ উল্লাসের নামে বেপরোয়া ফাঁকা গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার করাচির পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় করাচির পিআইবি কলোনির একজন পুরুষ ও এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যিনি পরে মারা যান।
তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ আরও ১৭ জনকে সিভিল হাসপাতালে, ২৪ জনকে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে এবং ৫৩ জনকে জিন্নাহ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লিয়ারি, সদর, কোরাঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, উত্তর নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-ই-ইকবাল, ওরাঙ্গি টাউন, জামশেদ কোয়ার্টার্স এবং ডিফেন্সে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, করাচির পূর্ব জেলার পুলিশ স্বাধীনতা দিবসে ফাঁকা গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
করাচির পশ্চিম জেলা পুলিশও একই অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রসঙ্গত, কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বা নতুন বছরের মতো উৎসবগুলোতে এই ধরণের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা একটি নিয়মিত ও বিপজ্জনক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছরই বহু মানুষের প্রাণহানি ও মারাত্মক জখমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে করাচিতে উদযাপনের গোলাগুলিতে এক মেয়েশিশুসহ তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: ডন
এমএইচআর




