শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোট দুই দফায়— ব্রিকস সম্মেলন এবং দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য পৃথকভাবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ঢাকার পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি। তবে ভারতের গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন না বা ভারত সফরও করবেন না।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তারেক রহমান তাকে এই বার্তাটি দেন।

image

অন্যদিকে আরেক ভারতীয় সয়ংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে নয়াদিল্লি সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশেই ইতিমধ্যে এ সফরের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সফর অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সম্ভাব্য সফরটি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক পর্যায়ে চার দিন ধরে নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। 

আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দুই দিনের এই সফরটি একটি দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যদিও এর সময়সূচির মতো বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে এখনও কাজ চলছে। 

image

এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই নেতা বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক হলেও এর তারিখ বা দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সফরটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, যখন দুই দেশের সরকারপ্রধানরা কথা বলেন বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন, তখন অনেক জটিল সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের এই সুযোগটি ভারতেরও ইতিবাচকভাবে নেওয়া এবং এর ‘সদ্ব্যবহার করা’ উচিত।

তবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সফরটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি, দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু সাংবিধানিক কাজ এবং দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতির ওপর। উভয় দেশের জন্য একটি সুবিধাজনক সময়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সম্মেলনটি আরও এক মাস বাকি এবং এই এক মাসের মধ্যে অনেক কিছু হতে পারে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেক-এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি। ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী আঞ্চলিক জোটগুলোর প্রধানদের এর ‘আউটরিচ সেশন’-এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে ভারত। গত ১৪ জুলাই ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে এই কূটনৈতিক পত্রটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।

তবে ব্রিকসের আমন্ত্রণপত্রের ভাষা নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়েছে। এতে তারেক রহমানকে সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ না করে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে, যা ইতিবাচকভাবে নেয়নি ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে একটি আঞ্চলিক জোটের প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয় প্রটোকলগত অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ঢাকা এখনো সফরে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

যদিও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি আঞ্চলিক জোট- বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশ নেওয়ার জন্য পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করলে আবার নতুন করে বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। 

দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয়ের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তার ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। 

এতে আরও দাবি করা হয়, হাসিনাকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে তারেক রহমান ও তার দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। দিল্লিকে দেওয়া একটি বার্তায় ঢাকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরটি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ওপরই ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ভাগ’ নির্ভর করবে।

সূত্র: দ্য ট্রিবিউন, এনডিটিভি 

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর