প্রথমবারের মতো চন্দ্র অভিযানের প্রস্ততি নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান। ২০২৯ সালে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম চন্দ্রযান বা রোভার ‘জিন্নাহ-১’, যা দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা— পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানের ঘোষণা দেয়।
সুপারকো জানিয়েছে, এই উচ্চাভিলাষী মহাকাশ মিশনটির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে চীনের চ্যাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযান। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ বৈজ্ঞানিক চুক্তির অংশ হিসেবে চীনের এই মহাকাশযানের সফরসঙ্গী হয়ে চাঁদে যাবে ‘জিন্নাহ-১’।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চাঁদের অত্যন্ত দুর্গম ও রহস্যময় দক্ষিণ মেরু অঞ্চল। এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ ও বরফ অবস্থায় পানি প্রাপ্তির ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।
প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের এই ছোট রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর তীব্র ঠাণ্ডা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালাবে। এর প্রধান কাজ হবে চাঁদের উপরিভাগের প্লাজমা ও মহাজাগতিক বিকিরণ পর্যবেক্ষণ করা, ভৌগোলিক মানচিত্র তৈরি করা এবং সেখানে বরফ আকারে থাকা পানি ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের সন্ধান করা।
এদিকে রোভারটির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক দারুণ গল্প। পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছে ‘জিন্নাহ-১’। দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার সাধারণ মানুষের পাঠানো প্রস্তাবিত নাম থেকে এটি চূড়ান্ত করা হয়। পাঞ্জাবের বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ তৈয়ব করিম এই নামের প্রস্তাব দিয়ে বিজয়ী হন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের ‘চন্দ্রযান-৩’ প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করে ইতিহাস গড়েছিল। একই বছরে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পরিচালনা করতে ২০২৯ সালে চ্যাং’ই-৮ নভোযান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল চীন। সেই অভিযানের পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তির রোভার চাঁদে পাঠিয়ে সেই এলিট ক্লাবে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
সুপারকো জানিয়েছে, এই সফল উৎক্ষেপণ পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর




