জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানিতে ডুবে এবং গাড়ি আটকে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক বন্যার কারণে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
জাপানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচারে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
চিবা প্রিফেকচারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী এক পুরুষ ব্যক্তি রয়েছেন। তাকে প্লাবিত সড়কের পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
এছাড়া ৬৬ বছর বয়সী এক নারী পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে মারা যান। তৃতীয় ব্যক্তি একজন পুরুষ। তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। চতুর্থ নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া আরও একজন মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চিবা প্রিফেকচারের প্রায় ২৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর।
এদিকে এনএইচকে জানিয়েছে, টোকিওর দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি নারিতায় প্রায় ৭ হাজার মানুষ রাতভর আটকা ছিলেন। বন্যার কারণে বিমানবন্দরমুখী ও বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া অনেক ট্রেন শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের বিনা মূল্যে পানি, খাবার ও ঘুমানোর ব্যাগ দিয়েছে।
এনএইচকেকে এক আটকে পড়া যাত্রী বলেন, ‘কখনো ভাবিনি বিমানবন্দরে রাত কাটাতে হবে। তবে পরিস্থিতি যেমন, তেমনই মেনে নিতে হচ্ছে এবং আমরা এখান থেকে শিখছি। এই ভ্রমণের কথা আমরা কখনো ভুলব না।’
অন্যদিকে সড়ক ও রেল যোগাযোগও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এনএইচকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চিবা স্টেশনেও শত শত মানুষ আটকা পড়েছেন। এছাড়াও চিবার বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন। কাশিওয়া শহরে গাড়ির হেডলাইট পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
তবে পরিস্থিতি উন্নতির কথা জানিয়েছে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ)। শুক্রবার সকালে ভারী বৃষ্টির লেভেল-৫ সতর্কতাগুলো লেভেল-৪-এ নামিয়ে আনে সংস্থাটি।
সূত্র: এনএইচকে
এমএইচআর




