বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জমি নিয়ে বিরোধ

আসাম-অরুণাচল সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশের ফাঁকা গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জমি বিরোধ নিয়ে আসাম-অরুণাচল সীমান্তে সংঘাত, পুলিশের ফাঁকা গুলি

ভারততের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুটি প্রতিবেশী আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ শূন্যে গুলি চালিয়েছে।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) জমি দখলকে কেন্দ্র করে অরুণাচলের দিক থেকে আসা কিছু দুষ্কৃতীর গুলিতে আসামের মিসিং সম্প্রদায়ের ১২ জন গ্রামবাসী আহত হন। এর প্রতিবাদে  মিসিং সম্প্রদায়ের শীর্ষ ছাত্র সংগঠন টাকাম মিসিং পোরিন কেবাং এবং অন্যান্য স্থানীয় গোষ্ঠী বুধবার থেকে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের অর্থনৈতিক অবরোধের ডাক দেয়। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেই অবরোধ চলাকালীন ধেমাজি জেলায় লিকাবালি সীমান্তে অরুণাচলের দিক থেকে আসামের বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। এর জেরেই দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ৩ রাউন্ড শূন্যে গুলি ছোঁড়ে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুই রাজ্যের জনগণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সম্পর্ক সীমানার ঊর্ধ্বে। যুগ যুগ ধরে এখানকার মানুষ ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভাই-বোনের মতো বসবাস করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আসাম ও অরুণাচলের জনগণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। সীমান্ত আমাদের রাজ্যগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে, কিন্তু তা আমাদের হৃদয়কে কখনও আলাদা করতে পারবে না।’

এর আগে বুধবার অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর কাছে এই ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তার পর পেমা খান্ডু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন ‘আমি মাননীয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জির ইতিবাচক ও আশ্বস্তকারী বিবৃতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

প্রসঙ্গত, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধ এবং জমি দখল সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৩ সালে সমতল ভূমি (আসাম) এবং পাহাড়ি অঞ্চলের (অরুণাচল) মধ্যে একটি কাল্পনিক রেখা টেনে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭১ সালে অরুণাচল প্রদেশ গঠিত হওয়ার পর যখন নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়, তখন আসামের সমতলের কিছু অংশ অরুণাচলে চলে যায়, যা নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে জটিলতার সৃষ্টি হয়। দুই রাজ্যের মধ্যে ৮০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে প্রায় ১ হাজার ২০০টি বিতর্কিত স্থান রয়েছে। 

আসামের ধেমাজি সহ বেশ কিছু সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের লোকজন বনাঞ্চল এবং চাষের জমি দখল করে ভেতরে ঢুকে আসছে। অন্যদিকে অরুণাচলের বাসিন্দাদের দাবি, এগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদেরই জমি। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও অর্থনৈতিক অবরোধ সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আবারো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, এপিবি

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর