যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, দুর্বল ও মনগড়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ভুল হিসাব কষে আসছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবার আরও বড় ধরনের কৌশলগত ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে সতর্ক বরেছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘ভুয়া খবরের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর ও ভয়ংকর হলো ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য, সতর্ক থাকুন।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ভুল হিসাবের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর বিষয়টিকে উল্লেখ করেন। তেহরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভুল ধারণা ছিল।
The U.S. has long miscalculated due to intelligence failures. Case in point: The war on Iran. Now, an even bigger miscalculation on the Strait of Hormuz.
— Seyed Abbas Araghchi (@araghchi) August 13, 2026
Worse than fake news is fake intelligence. Be careful.
Allah is Great, Greater than ANY power on Earth. In Allah we trust.
আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ‘এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের ভুল হিসাব বা মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে’।
পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আল্লাহ মহান, পৃথিবীর সকল শক্তির ঊর্ধ্বে। আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি’।
মূলত, হরমুজ প্রণালি বকর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচির পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা এলো।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখব। আমাদের নৌ অবরোধকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলছে। আর ইরানের এ বিষয়ে কিছুই করার নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির অবশিষ্ট সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ার আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি ও শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
আইআরজিসির অন্যতম মুখপাত্র এবং আধা সামরিক বাসিজ বাহিনীর প্রধান হোসাইন তায়েব বলেছেন, ‘পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে যুদ্ধে নেমে জব্দ হওয়ার পর এখন হরমুজ প্রণালিকে ইস্যু করে ফের সংঘাত শুরু করতে চাইছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানের কোনো বিমান বাহিনী বা নৌবাহিনী নেই, তারপরও যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। এখন তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। তবে হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
এমএইচআর




