কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের একটি ভবন ধসে পড়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ বছর বয়সী একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর পেরেইরা শহরের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ড্যানিয়েলা লার্গো নামে ওই নারীকে বের করে আনা হয়। দমকলকর্মীরা চারটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়ে থাকা লার্গোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তারা স্ল্যাবগুলোর নিচ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তার কাছে পৌঁছান।
লার্গোর মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য তার মেয়ের চিৎকার শুনতে পান।
জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে তাকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব তার কাছে যাওয়ার পথ আটকে রেখেছিল।
স্থানীয় দমকলকর্মীদের সঙ্গে রাজধানী বোগোতা থেকে আসা কর্মী এবং জাতীয় পুলিশ বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা দল মিলে লার্গোর কাছে পৌঁছানোর জন্য দুটি সুড়ঙ্গ খুঁড়তে বাধ্য হয়। উপরের দিক থেকে খোঁড়া একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তারা লার্গোকে অক্সিজেন সরবরাহ করেন। তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয় নিচের দিক থেকে খোঁড়া দ্বিতীয় সুড়ঙ্গটির মাধ্যমে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লার্গোর উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘এটি এমন একটি খবর, যা আমাদের আশায় ভরিয়ে দেয়’।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলো থেকে পাওয়া পৃথক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৫৪ জন। এর মধ্যে কফি উৎপাদনকারী প্রত্যন্ত অঞ্চল পেরেইরাতে ১০১ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন।
এরআগে গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় আঘাত হানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি কেবল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরবর্তী ভেনিজুয়েলাতেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।
মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
এদিকে সোমবার রাত পর্যন্ত স্থানীয় নাগরিকদের পরিচালিত ওয়েবসাইটগুলোতে ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল। যদিও এই সংখ্যাটি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, উদ্ধর কাজ এখনো চলমান থাকায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা নবনির্বাচিত কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে। গত শুক্রবারই দায়িত্বগ্রহণ করেছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর




