বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভারতে ১০ রুপি প্রতি লিটারে গোমূত্র কিনছে সরকার, উদ্দেশ্য কী? 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতে ১০ রুপি প্রতি লিটারে গোমূত্র কিনছে সরকার, উদ্দেশ্য কী? 

ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১০ রুপি দরে গোমূত্র কেনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা সফল হলে পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি লিটারের দাম সর্বোচ্চ ২০ রুপি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলন্দশহরের সিয়ানা তহসিলের নারসেনা গ্রামের একটি ‘ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’ (এফপিও)-এর মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৫টি গ্রামের পশুপালকদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর জন্য প্রতিটি গ্রামে গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য ২০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা বয়োস্ক গরুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা। কারণ দুধ দেওয়া বন্ধ করা গাভীদের আর্থিক বোঝা মনে করে কৃষকরা সেগুলোকে রাস্তাঘাটে বা মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেন, যা ওই গরু ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। 

 

একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের গোমূত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে তাদের জন্য নিয়মিত কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি করা। ইতোমধ্যেই  প্রায় ৩০০ গ্রামীণ নারীকে এই প্রকল্পের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার করা হয়েছে। তারা নিজেদের গ্রামে থেকেই গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তা করছেন এবং প্রতি লিটার সংগ্রহের বিপরীতে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।

এদিকে সংগৃহীত গোমূত্র বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত করে সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত ও প্রাকৃতিক উপায়ে তরল জৈব সার এবং কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষি কমিটির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। 

তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি এই প্রকল্পকে একটি ‘কেলেঙ্কারি’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। 

দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই ধরণের প্রকল্প সাজানো হয়েছে। 

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই সমালোচনার জবাবে বলেছে, বিরোধীরা সবসময় সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কাজের মধ্যে খুঁত খোঁজার চেষ্টা করে।

বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ খামারিরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন, যা সমাজবাদী পার্টির সহ্য হচ্ছে না। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর আইন পাস করে। এর ফলে বয়স্ক, অসুস্থ বা দুধ দেওয়া বন্ধ করা গরু কেনাবেচার বাজার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পশুপালকরা অর্থনৈতিক বোঝা টানতে না পেরে লাখ লাখ গরুকে রাস্তাঘাটে বা বনে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এতে এই ক্ষুধার্ত পরিত্যক্ত গরুগুলো কৃষকদের ক্ষেতের ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট করছে। এছাড়া, লোকালয়ে মানুষের ওপর গরুর আক্রমণের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

সূত্র: এনডিটিভি, এবিপি

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর