শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

চীনের মাথাব্যথার কারণ কে এই ‘লৌহমানবী’?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

চীনের মাথাব্যথার কারণ কে এই ‘লৌহমানবী’?

চীনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন তাইওয়ানের ‘লৌহমানবী’ খ্যাত সাই ইং ওয়েন। হুমকি সত্ত্বেও এক ইঞ্চি জমি ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট। জনগণের কাছে তিনিই তাইওয়ানের ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’।

মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। আর দুই মহাশক্তির লড়াইয়ে নিজের অবস্থানে অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। তার স্পষ্ট কথা, দেশের স্বাধীনতার জন্য চীনের সঙ্গে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চলবে। 

কে এই ‘লৌহমানবী’? ১৯৫৬ সালে দক্ষিণ তাইওয়ানে জন্ম হয় সাইর। মাত্র ১১ বছর বয়সেই রাজধানী তাইপেই চলে আসেন তিনি। স্কুলজীবন শেষে তাইওয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক শেষ করেন। ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের করোনেল ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে ডক্টরেট পান তিনি।

সাই ইং ওয়েনের রাজনৈতিক জীবনও নানা চাপানউতোরে ভরা। ২০১৬ সালে তাইওয়ানের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। তারই আমলে সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতি দেয় তাইওয়ান। 

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাইয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একের পর এক সামরিক চুক্তি করে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সাই। চীন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বারবার হুমকি সত্ত্বেও দেশের সাবমেরিন বাহিনীকে মজবুত করেছেন তিনি। 

Tsai Ing wen

২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তাইওয়ান সফরে আসেন তৎকালীন মার্কিন স্বাস্থ্যসচিব আলেক্স আজার। সেবারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল চীন। কিন্তু তাতে মোটেও দমে যাননি সাই। চীনের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই ২০২০ সালে ফের ক্ষমতায় আসেন সাই। আবারও মসনদে বসে চীনবিরোধী অবস্থান আরও মজবুত করেন তিনি। মঙ্গলবার মার্কিন স্পিকার পেলোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট সাই বলেন, ‘গণতন্ত্রের রক্ষায় আমরা সবসময় লড়াই চালিয়ে যাব’।

চীনের চরম হুমকি উপেক্ষা করে তাইওয়ান সফর করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ন্যান্সি পেলোসি। এ নিয়ে ওই অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত কেউ কাউকে আক্রমণ করেনি। তবে এটুকুতেই ছাড় দিচ্ছে না চীন। এরই মধ্যে তাইওয়ানকে উচিত শিক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শি জিনপিং প্রশাসন।

এর আগে পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে। পেলোসির সফরের আগেই ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় রণতরীসহ চার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে বাইডেন প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয় যুদ্ধবিমানও।

এদিকে চীনও যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রাখে। তাইওয়ানের আকাশসীমায় একাধিকবার সামরিক মহড়া চালায়। পেলোসি তাইওয়ানে পৌঁছনোর সময় তাইওয়ানের আকাশে ঢুকে পড়ে চীনা যুদ্ধবিমান। এ সময় টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Tsai Ing wen

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের চারদিকে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। এর পাশাপাশি তাইওয়ানকে সংকটে ফেলার সব পথ এরই মধ্যে তৈরি করে ফেলেছে চীন। তাইওয়ানকে উচিত শিক্ষা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে বেইজিং।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিকভাবে নয়, তাইওয়ানকে ভাতে মারতে পরিকল্পনা করছে বেইজিং। কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব? তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সহযোগী চীন। গত বছর দু’দেশের মধ্যে ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। বেইজিং রাতারাতি তা বন্ধ করে দিয়েছে। পেলোসি তাইপের মাটি ছোঁয়ার আগেই তাইওয়ানের শতাধিক সরবরাহকারীর থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি বন্ধ করেছে। 

বুধবার সকালে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাইওয়ানে বালি পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে চীনের সংস্থাগুলো তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ রদ করেছে। তাইওয়ানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে হয়ত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পথে যাবে না চীন।  বাণিজ্যিকভাবে তাইওয়ানের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশলে এগোবে তারা। 

সূত্র: ফোর্বস, উইকিপিডিয়া, গ্লোবাল টাইমস

একে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর