ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এবং পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থানের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে আমেরিকা ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাজা আসিফ বলেন, "পরিস্থিতি আবারও একটি শান্তি চুক্তি বা সমঝোতার পক্ষে মোড় নিচ্ছে। গত দুই-তিন দিনের ইঙ্গিত বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে আমরা কোনো না কোনো চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছি।" কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতির বিস্তারিত না জানালেও তিনি জানান যে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে জানান, হরমুজ প্রণালীতে আংশিক নৌযান চলাচলের বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে বেশ অগ্রগামী পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এই ইতিবাচক খবরের মাঝেও চুক্তি ও সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের তীব্র বাকযুদ্ধ বজায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তব্যে দাবি করেন, বিগত দিনের সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসেন রেজাই চীন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালীর রুট নির্ধারণ সম্পর্কিত আলোচনা এবং প্রণালীটি পুনর্খোলার বিষয়টি আলাদা। ইরান শর্ত দিয়েছে যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৮.৮০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসন বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষই একে অপরের শর্তকে প্রাথমিক পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করায় কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচক হলেও বাস্তবে চুক্তি বাস্তবায়ন বেশ জটিল রূপ নিতে পারে।




