মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হাসিনা ও হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যা বলল ভারত 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

হাসিনা ও হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যা বলল ভারত 

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকারী‌দের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দিল্লি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘হাদির বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। এ বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের বিষয়ে যেমনটি আমরা আগেও বলেছিলাম, এই অনুরোধটি এখন আমাদের অভ্যন্তরীণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’

এরআগে গতকাল সোমবার ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। 

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা আশা করে তা দ্রুত হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এটাও দ্রুত হবে বলে আশা করছি’।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষ ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

পরে গত ৮ মার্চ হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।

সূত্র: ফাস্ট পোস্ট

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর