মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গ্রামে অলৌকিকভাবে বাঁচল সবাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

শেয়ার করুন:

চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গ্রামে অলৌকিকভাবে বাঁচল সবাই
ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কলম্বিয়া।

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে যখন বিভিন্ন শহরে ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির খবর আসছে, তখন ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছের একটি গ্রামে অবাক করার মতো খবর এসেছে। চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে ভূমিকম্পের কেন্দ্র হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মেয়র লিওন ফাবিও মারিন মোনকাদা ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে বর্ণনা করেছেন।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্র।

তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের এত কাছে অবস্থান করেও সান হোসে দেল পালমারে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় মেয়র লিওন ফাবিও মারিন মোনকাদা বিষয়টিকে অনেকটা ‘অলৌকিক’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফাবিও মারিন মোনকাদা জানান, গ্রামটিতে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা অনেকটা অলৌকিক বলেই মনে হচ্ছে। তবে গ্রামটির সঙ্গে যোগাযোগের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ ও জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

colombiaভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরেও দেখা গেছে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। সেখানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পে কলম্বিয়াজুড়ে এ পর্যন্ত ১৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৪৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পেরেইরার পাশাপাশি কালি, মানিজালেস, কুইবদো, মেডেলিনসহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

কালি শহরে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। মানিজালেসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানী বোগোতায়ও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। কেঁপে উঠেছে গাছপালা ও ট্রাফিক সিগন্যাল। কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। সূত্র: বিবিসি।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর