শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে স্বামী, মোবাইল ভাঙায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে স্বামী, মোবাইল ভাঙায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা!
ফাইল ছবি।

এক তরুণীর সঙ্গে স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অনেকদিন ধরেই সন্দেহ ছিল স্ত্রীর। কয়েক দিন আগে সেই তরুণীর সঙ্গে স্বামীকে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখে তর্কে জড়ান স্ত্রী। একপর্যায়ে স্বামীর হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে সেটি ভেঙে ফেলেন। এতে ক্ষোভে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে দেন স্বামী। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শনিবার মৃত্যু হয় ওই তরুণীর।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার মানিকচক থানার নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ গৃহবধূ চুন্নির খাতুন শনিবার মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী সামিউল শেখকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামিউল শেখ নুরপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় ব্যবসায়ী। নিহত চুন্নির খাতুনের বাড়ি বিহারের কাটিহারে। প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

চুন্নির খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি জানতে পারেন, সামিউল স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সামিউল তার স্ত্রীকে মারধরও করতেন।

কয়েক দিন আগে সামিউল বাড়িতে বসে ওই তরুণীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। বিষয়টি চুন্নির দেখে ফেলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চুন্নির সামিউলের মোবাইল ফোনটি মাটিতে আছড়ে ভেঙে দেন।

এরপর সামিউল স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছে চুন্নিরের পরিবার।

চুন্নির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আগুনে তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শনিবার মারা যান ২০ বছর বয়সী তরুণীটি।

চুন্নির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সামিউলকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামিউল কোনো জবাব দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সামিউলের ভাই আনাস শেখ, বোন চামেলি বিবি এবং মা দিলনুর বিবির বিরুদ্ধেও মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে নাম থাকা অন্যরা পলাতক। সূত্র: আনন্দবাজার।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর