শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মার্কিন মুসলিম সিনেটর প্রার্থী ডা. সায়েদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

এমএম সালাহউদ্দিন
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ এএম

শেয়ার করুন:

মার্কিন মুসলিম সিনেটর প্রার্থী ডা. সায়েদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম চিকিৎসক ও প্রগতিশীল নেতা ডা. আবদুল এল-সায়েদ। 

নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হবেন।

কিন্তু তার আগেই এই মুসলিম সিনেটর প্রার্থীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যাপক অপপ্রচার ও ইসলামভীতি ছড়ানো হচ্ছে। 

ইসরায়েল নীতির কড়া সমালোচক এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইহুদি লবিস্ট দিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন।

অপপ্রচারের প্রধান দিক হলো-ধর্ম ও উগ্রবাদের ট্যাগ লাগানো। এল-সায়েদ ইহুদি সম্প্রদায় ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করেন—এমন অসত্য ও বানোয়াট দাবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

ভিত্তিহীন আরও যে অভিযোগ আনা হচ্ছে- তা হলো, উগ্রপন্থীদের সঙ্গে তা যোগাযোগ রয়েছে। এমন ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী মহল।

নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে হারাতে এবং তার প্রগতিশীল ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোটি কোটি ডলারের 'ডার্ক মানি' বা গোপন তহবিল ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।

ডা. আবদুল এল-সায়েদ নিজের বিরুদ্ধে আনা ইহুদিবিদ্বেষ ও উগ্রবাদের সব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিভাজনের রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ের মাধ্যমে এল-সায়েদ শুধু দলীয় মনোনয়নই নিশ্চিত করেননি, জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় উঠে এসেছেন তার নির্বাচনী এজেন্ডার কারণে। 

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার অবস্থান প্রচারণার অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল।

ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদ প্রায় ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন। 

স্টিভেন্স পান প্রায় ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। এ ফলের মাধ্যমে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট অর্জন করেন।

এল-সায়েদের প্রচারণার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা। 

তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন সামরিক সহায়তায় ব্যয় হওয়া উচিত নয়, যা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং মানবাধিকারভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নেন।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও তিনি উচ্চাভিলাষী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বাস্তবায়ন, যাতে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা যায়। এছাড়া তিনি আয় বৈষম্য কমানো, করব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের পক্ষে প্রচারণা চালান।

অভিবাসন নীতিতেও তিনি বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচক। এল-সায়েদ দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত করে আরও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অভিবাসীদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য আচরণ করা হয় এবং এতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর