রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধের একটি বিল শুক্রবার মার্কিন সিনেটে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে পাস হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই তোড়জোড় চলছে।
এবার বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের অপর কক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে পেশ করা হবে। সেখানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চিত্রটি স্পষ্ট হতে চলেছে।
দুই কক্ষে বিল পাস হলে বাকি থাকবে কেবল ট্রাম্পের স্বাক্ষর। ট্রাম্প বিলে সই করলেই তা আইনে পরিণত হবে এবং রাশিয়ার থেকে যে সব দেশ জ্বালানি কেনে, তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনে পদক্ষেপ নিতে পারবে ওয়াশিংটন।
আমেরিকার এই বিলটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে যে সব দেশ তেল বা অন্য জ্বালানি কিনছে, তারা পরোক্ষে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনকেই সমর্থন করছে। তাই তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে আমেরিকা।
এই আইনে সমস্যা হতে পারে ভারত, চীন ও জাপানের মতো দেশের। ইউক্রেনসহ বেশ কিছু দেশ আবার বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছে।
মার্কিন সিনেটে পেশ হওয়ার পর থেকেই এই বিলটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সপ্তাহখানেক আগে ভোটাভুটির মাধ্যমে সিনেটে এই বিলের পদ্ধতিগত কিছু বাধা সফল ভাবে অতিক্রম করেছিলেন রিপাবলিকানেরা।
সেসময় এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৬টি এবং বিপক্ষে ১২টি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চূড়ান্ত ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়েছে। ৮৬-১১ ভোটে বিলটি সিনেটে পাস হয়েছে।
তেল বিক্রি করে যে রাজস্ব আদায় করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি কাজে লাগাচ্ছেন বলে আমেরিকার অভিযোগ। সেই পথ রোধ করাই ট্রাম্পের উদ্দেশ্য।
সিনেটে বিল পাস হওয়ার পর ইউক্রেনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এক সিনেটর বলেছেন, ‘আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলতে চাই, আপনারা একা নন। আমরা পুতিনকে বলতে চাই, আপনি কোনও দিন ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।’
এই মুহূর্তে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কিনছে চীন। তালিকায় দ্বিতীয় ভারত। এ ছাড়া ক্রেতার তালিকায় ওপরের সারিতে রয়েছে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান ও জাপানের মতো দেশ।
আমেরিকায় আইন পাস হওয়ার পর এই দেশগুলি যদি রুশ তেল কেনা বন্ধ না-করে, চাইলেই তাদের ওপর ইচ্ছামতো শুল্ক চাপাতে পারবেন ট্রাম্প।
সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির অবস্থান কী হবে? কিছু দিন আগে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আমেরিকার ওই বিলের দিকে নজর রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হবে।
-এমএমএস




