রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সেনাঘাঁটিতে হুথির হামলায় নিহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

শেয়ার করুন:

ইয়েমেনের সৌদির সমর্থিত সেনাঘাঁটিতে হুথির হামলায় নিহত ৩০

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হলো। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবের সাহায্যপুষ্ট ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ইরানের অন্যতম সহযোগী হুথি।

ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে। 

হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধ-শতাধিক সেনা। সৌদির মদতপুষ্ট ইয়েমেন সরকার জানিয়েছেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। 

পরে ইরান-সমর্থিত শিয়া বিদ্রোগী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা ‘সৌদি সমর্থিত সামরিক অবস্থান’ নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুথির দাবি, আল-রুয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াহ এলাকায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানে হামলায় শতাধিক যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সৌদির মদদপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের সেনারা বহু বছর ধরে উত্তরাঞ্চলের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। 

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সংঘর্ষ শুরুর পরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল হুথি। সেসময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল তারা। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টিকম) বাহিনী চলতি বছরের গোড়া থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। 

সৌদি আরবের মদদপুষ্ট ইয়েমেনের সুন্নি গোষ্ঠীর সরকারও শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালালেও রাজধানী সানা-সহ উত্তর ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশ এখনও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে।

অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ায় আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরত দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করেছে দক্ষিণ ইয়েমেনে সক্রিয় গণতন্ত্রপন্থী সুন্নিগোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-কে কিন্তু সৌদি আরবের হুমকির জেরে গত বছরের শেষ দিকে এসটিসিকে সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা করে আমিরাত। 

পরে চলতি বছরের প্রথম দিকে ইয়েমেনের সেনারা সৌদির মদদে দক্ষিণ ইয়েমেনের এসটিসি নিয়ন্ত্রিত এলাকার দখল নেয়। কিন্তু সৌদির প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও হুথিকে বাগে আনা সম্ভব হয়নি। 

গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্‌ফের মতোই ইয়েমেনের হুথিও তেহরানের ‘যৌথ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি’ (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স)-র অন্যতম অংশ। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হুথি বাহিনী ইসরায়েলে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’ দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। 

তার পর ইসরায়েলও ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনে। কিন্তু হিজবুলাহ-র মতোই হুথি বাহিনীও কোনও অবস্থায় তেলআবিবের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আগেই।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর