যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও এর আশপাশের এলাকায় মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে প্রায় ৬ লাখ ল্যাবরেটরিতে তৈরি বিশেষ পুরুষ মশা ছাড়ার একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম কোনো উদ্যোগ, যেখানে সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের বাড়ির আঙিনায় এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।
‘বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল’ নামের একটি মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ‘এশিয়ান টাইগার’ প্রজাতির পুরুষ মশা অবমুক্ত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। এদের শরীরে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব পুরুষ মশা যখন এই ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম আর ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়।
বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় পরিবেশবান্ধব এই জৈবিক দমন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেন একটি টিকটিক করা সময়বোমার ওপর বসে আছি। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বেড়েছে। এতে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই থাকতে পারে। যদি পুরুষ মশার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে কিন্তু স্ত্রী মশার শরীরে না থাকে, অথবা ভিন্ন ধরনের ওলবাকিয়া থাকে, তাহলে তাদের মিলনের পর ডিম নিষ্কি হয়ে যায় এবং বংশবিস্তার বন্ধ হয়।
প্রসঙ্গত, এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সরকারি উদ্যোগ চলছে সিঙ্গাপুরে। ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে মশার সংখ্যা এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
গত মে মাসে একই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ একই ধরনের ওলবাকিয়া-আক্রান্ত মশা ছাড়ার জন্য মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে প্রযুক্তির জায়ান্ট গুগল।
সূত্র: এএফপি
এমএইচআর




